test
বাংলা নামের অর্থঅন্যান্যবাংলাদেশের আয়তন কত? যেভাবে বাড়ছে ও কমছে প্রতিনিয়ত

বাংলাদেশের আয়তন কত? যেভাবে বাড়ছে ও কমছে প্রতিনিয়ত

বাংলাদেশের আয়তন কত? প্রথামিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় এই প্রশ্নটির সম্মুখীন হয়েছি আমরা বারবার। শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় কেনো? বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি, বিসিএস-সহ বিভিন্ন সরকারি চাকুরীর পরীক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এটি।

বাংলাদেশের আয়তন কত?

যদিও প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই আমরা পড়ে আসছি বাংলাদেশের আয়তন এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার পাঁশচ সত্তর কিলোমিটার (১,৪৭,৫৭০ কি.মি.)। কিন্তু এরমধ্যে কি বাংলাদেশের আয়তন এর কোনো পরিবর্তন কি হয়নি? বাংলাদেশের আয়তন কি বেড়েছে অথবা তলিয়ে গেছে কিছুঅংশ ভূগর্ভেও।

সমুদ্র বিজয়, ছিটমহল বিনিময়ের খবর নিশ্চয় সবাই জানেন। তাই প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক, বাংলাদেশের আয়তন কত বর্গ কিলোমিটার?

স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের আয়তন এ পার্থক্য গড়ে দিতে বেশ কিছু নিয়ামক কাজ করেছে। যেমন, উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন নতুন দ্বীপ জেগে ওঠা, ছিটমহল বিনিময়, ভারতের সাথে সমুদ্র বিজয়, মায়ানমারের সাথে সমুদ্র বিজয় প্রভৃতি। ফলস্বরূপ বাংলাদেশের আয়তন বেড়েছে প্রায় দুই পঞ্চমাংশ। যার প্রভাব ফেলেছে বাংলাদেশের বনভূমি, অর্থনীতি, পর্যটন, সম্পদ, বাসস্থান সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশের আয়তন বৃদ্ধিতে নিয়ামকসমূহঃ

ছিটমহল বিনিময়

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয় বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়। ভারতভাগের ৬৮ বছর ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর অবসান হয় বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল সমস্যার। ১৬২ টি ছিটমহলের প্রায় ৫৫হাজার মানুষের শেষ হয় ৬৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। এই দীর্ঘ সময়ে ভারতের মধ্যে বাংলাদেশের ৫১ টি আর বাংলাদেশের মধ্যে ভারতে ১১১ টি ছিটমহল ছিলো। ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্ত হয় নতুন ১৭, ১৬০ একর জমি। ফলে বাংলাদেশের আয়তন বৃদ্ধি পায় আরও ৪০ বর্গকিলোমিটারের সামান্য বেশি।

ভারতের সাথে সমুদ্র বিজয়

২০১৪ সালের ৭ জুলাই নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিশি আদালত (পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আর্বিট্রেশন বা পিসিএ) রায়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সুমদ্রসীমা বিরোধের মিমাংসা হয়। এই রায়কে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বঙ্গোপসাগরের ২৫,৬০২ বর্গ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিলো দুই দেশের মধ্যে। রায়ে বাংলাদেশ লাভ করে ১৯,৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।

মায়ানমারের সাথে সমুদ্র বিজয়

২০১২ সালের ১৪ মার্চ জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত এই আন্তর্জাতিক সমুদ্র আদালতের রায়ে মায়ানমারের সাথে ঐতিহাসিক সমুদ্র জয় করে বাংলাদেশ। এরায়ে নিষ্পত্তি হয় দুই দেশের মধ্যে চলা ৩৮ বছরেরে বিরোধ। মোট ৮০ হাজার বর্গকিলোমিটারের বিরোধ ছিলো বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে। এরমধ্যে আদালতের রায়ে ৭০ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা লাভ করে বাংলাদেশ।

বছরে বাড়ছে ১৬ বর্গ কিলোমিটার

২০১৬ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) এক গবেষণায় বলা হয় প্রতিবছর ১৬ বর্গকিলোমিটার জায়গা বাড়ছে বাংলাদেশের। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর বাংলাদেশের ৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি নদীভাঙনের কবলে পড়ছে। বিপরীতে পলি পড়ে জেগে উঠছে প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটার ভূমি।

নতুন দ্বীপ

বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলেগুলোতে নতুন নতুন দ্বীপ জাগলেও বিভিন্ন জরিপে দেখা যায় গত ২০ বছরে অস্বাভাবিকভাবে ৫০টিরও বেশি দ্বীপ জেগেছে। যার সম্ভাব্য আয়তন ১৬০০ বর্গকিলোমিটার ধারণা করা হয়।

প্রতবছরই বাড়ছে বাংলাদেশের আয়তন। মানচিত্রে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন অংশ। পরিবর্তন হচ্ছে মানচিত্র। সমুদ্র বিজয়, ছিটমহল বিনিময়ে বৃদ্ধি পেয়ছে প্রায় ৮৯,৫০৭ বর্গ কিলোমিটার জায়গা। এছাড়াও ভূতাত্ত্বিকভাবেতো বেড়েছেই। তবে সরকারিভাবে বাংলাদেশের আয়তন বৃদ্ধি নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি। তাই নির্দিষ্ট করে বলার সুযোগ নেই, বাংলাদেশের আয়তন কত বর্গকিলোমিটার।

আশা করছি আজকের এই লিখাটি পড়ে আপনি অনেক নতুন তথ্য জানতে পেরেছেন। বাংলাদেশের আয়তন কত এর উত্তর নিয়ে আর ধোয়াশায় পড়তে হবেনা। পাঠক, আপনার কি মনে হয় নতুন আয়তন সম্পর্কে আমাদের শিশুদের বইএও অন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ?

উক্তি পড়ুন
আরও পড়ুন